নিজস্ব প্রতিবেদক | রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬ | প্রিন্ট
গ্রামীণ কল্যাণের কাছে পাঁচ করবর্ষের বকেয়া কর আদায়ে হাইকোর্টের দেওয়া নির্দেশ স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত। রাষ্ট্রপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটির কাছে কর বাবদ দাবির পরিমাণ ৬৬৬ কোটি টাকা।
রোববার চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হক গ্রামীণ কল্যাণের করা পৃথক দুটি লিভ টু আপিলের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন। একই সঙ্গে আবেদন দুটি শুনানির জন্য আগামী ১৩ ডিসেম্বর আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে পাঠানো হয়েছে।
২০১২-১৩ থেকে ২০১৬-১৭ করবর্ষের কর দাবি নিয়ে বিরোধের জেরে গ্রামীণ কল্যাণের করা দুটি রিট গত ১০ সেপ্টেম্বর খারিজ করেন হাইকোর্ট। পরে প্রকাশিত পূর্ণাঙ্গ রায়ে বকেয়া কর আদায়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্ট কর কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়।
ওই নির্দেশনার বিরুদ্ধে গ্রামীণ কল্যাণ পৃথক দুটি লিভ টু আপিল করে। রোববার শুনানি শেষে চেম্বার আদালত হাইকোর্টের রায়ের নির্দেশনা অংশ স্থগিত করেন। ফলে আপাতত ওই নির্দেশনার ভিত্তিতে কর আদায়ের পদক্ষেপ নেওয়া যাবে না বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির আইনজীবীরা।
গ্রামীণ কল্যাণের পক্ষে আদালতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ফিদা এম কামাল, আবদুল্লাহ আল মামুন ও সরদার জিন্নাত আলী। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ মেহেদি হাসান।
গ্রামীণ কল্যাণ ও গ্রামীণ টেলিকমের চুক্তির আওতায় গ্রামীণফোনে বিনিয়োগ থেকে পাওয়া অর্থের প্রকৃতি নিয়ে কর বিরোধের সূত্রপাত। গ্রামীণ কল্যাণের দাবি, অর্থটি লভ্যাংশ আয়। তবে কর কর্তৃপক্ষের মতে, এটি বিনিয়োগ থেকে অর্জিত আয়, যা ‘অন্যান্য উৎস থেকে আয়’ হিসেবে গণ্য হওয়া উচিত।
কর কমিশনারের সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ২০১৭ সালে হাইকোর্টে রিট করে গ্রামীণ কল্যাণ। পরবর্তী সময়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের আপিল এবং হাইকোর্টে পুনরায় শুনানির পর গত ১০ সেপ্টেম্বর রিট দুটি খারিজ হয়।
গ্রামীণ কল্যাণের প্রতিষ্ঠাতা নোবেলজয়ী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। ১৩ ডিসেম্বর আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির পর কর বিরোধের পরবর্তী আইনি অগ্রগতি নির্ধারিত হবে।
Posted ১২:০২ অপরাহ্ণ | রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
9 News Bd | s s